নিন্দুকের মুখে ছাই মারুন

মানুষে কি বলবে এই কথায় কান না দিয়ে ছোট ব্যবসা, অথবা চাকুরীতে যোগদান করুন, একদিন সফল হবেন- ইন-শা-আল্লাহ।

বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৯

জেনে নিন বিদায় অনুষ্ঠান ভাষণের/শ্রদ্ধাঞ্জলির নমুণা



বিসমিল্লাহির রাহমানীর রাহীম
---------- (স্কুল এবং কলেজের নাম) - এর
----- সালের এস.এস.সি পরীক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষে

শ্রদ্ধাঞ্জলি

হে বিদায়ী ভাই/বোনেরা,
আস্সালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ্।
 

প্রকৃতিতে এখন নব উন্মাদনা, নব সজ্জা। কোকিলের সুমধুর সুর-মূর্ছনায় কার প্রাণ না শীতল হয়ে ওঠে? আকাশে শঙ্খচিলের অবিরাম উড়ে চলা- এক অপূর্ব দৃশ্য ! প্রকৃতি ভরে ওঠে অনির্বচনীয় কলহাস্যে। মানুষ আর প্রকৃতির মাঝে
জমে ওঠে অঘোষিত স্বয়ম্বর সভা, ঠিক এমনই এক মাহেন্দ্র ক্ষণে আমাদের কর্ণকুহরে এলো তোমাদের বিদায় রাগিনীর করুণ বাণী। বিদায়ের বাণী যে কত মর্মান্তিক, কত হৃদয় বিদারক তা ভাষায়  প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তাই আমাদের কণ্ঠস্বর আজ অবরুদ্ধ, বাকহীন! তোমরা চলে যাবে, রবে শুধু তোমাদের স্মৃতির দীপশিখা। মনে পড়ছে সেই বিখ্যাত কবিতার অমর চরণ -
                                “এ অনন্ত চরাচরে স্বর্গ মর্ত্য ছেয়ে
                                সবচেয়ে পুরাতন কথা, সবচেয়ে
                                গভীর ক্রন্দন, যেতে নাহি দেব। হায়!
                                তবু যেতে দিতে হয়, তবু চলে যায়।”

জগতের অনিবার্য বাস্তবতার প্রয়োজনেই তোমাদেরকে বিদায় জানানোর এ আয়োজন। গ্রহণ কর আমাদের  শ্রদ্ধাঞ্জলি।

হে পরম সুহৃদ,
বিগত দিনগুলোতে এ বিদ্যায়তনে আমরা ছিলাম তোমাদের সঙ্গে গভীর আত্মিক বন্ধনে আবদ্ধ। তোমাদের স্নেহসিক্ত ভালবাসায় আমরা ছিলাম সজীব ও প্রাণবন্ত। তোমাদের সদোপদেশ ও পরামর্শ আমাদেরকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। আমরা তোমাদের কাছে ঋণী। কৈশোরের দুরন্তপনা ও উচ্ছলতা বশে অনেক সময়ই আমরা তোমাদের সাথে অমার্জিত আচরণ করেছি। তার জন্য আজ আমরা লজ্জিত ও মর্মাহত। আমাদেরকে ক্ষমা করে দিও। চলার পথ তোমাদের সুন্দর ও কল্যাণকর হোক।
“সুন্দরে পূর্ণ করো হে
সুন্দরে পূর্ণ করো প্রভু।”

হে অভিযাত্রিক দল,
শিক্ষার কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত হওয়ার লক্ষ্যে কঠোর অধ্যবসায়, নিরলস শ্রম ও আন্তরিক আগ্রহে নিজেদের অলোকিত মানুষ গড়ার সাধনায় তোমরা সর্বদা ছিলে সচেষ্ট। তোমরা ভালোভাবে পরীক্ষা দিয়ে সফলতার দ্বারপ্রান্তে উপনীত হও আমরা এ কামনা করছি। এই বিদ্যালয়ের স্মৃতিময় দিনগুলো আর প্রিয় শিক্ষকবৃন্দের  ঐকান্তিক অবদানের কথা যেন তোমরা ভুলে না যাও। এই বিদ্যানিকেতনের অভিজ্ঞতা ও ঐতিহ্য যেন হয় তোমাদের ভবিষ্যৎ মানস গড়ার মূল প্রেরণা। কবির ভাষায় -
                                “তোমার উত্থান মাগি’ ভবিষ্যৎ রহে প্রতীক্ষায়
                                 রুদ্ধ বাতায়ন পাশে সঞ্চিত আলোক শিহরায়।”

হে আলোকের সন্ধানী,
আমাদের দেশ আজ দরিদ্র, অশিক্ষা, সংকীর্ণতা ও পশ্চাদপদতার আঁধারে ঢাকা। বিশ্বায়নের এই যুগে আলোর বিচিত্র পথের সন্ধানী, লক্ষ্য অর্জনে অটল, অবিচল। তোমরা অফুরন্ত প্রাণশক্তির অধিকারী। তোমাদের প্রাণের সেই দীপ্তিমান শিখাই চলার পথে শক্তি দান করবে। নদীর বহমান স্রোতধারা যেমন সামনের পথ কেটে চলে, অনুর্বর মাঠ প্রান্তরকে ফুলে ফসলে ভরে তোলে, তোমরাও তেমনি ভবিষ্যৎ নির্মাণের অঙ্গীকার বহন কর। তোমাদের জীবন হোক সুন্দর ও সার্থক।
                                “সুন্দর হে দাও দাও সুন্দর জীবন
                                হোক দূর অকল্যাণ সকল অশোভন।”
পরিশেষে- তোমাদের সততা, অধ্যবসায় ও কর্তব্যনিষ্ঠা, সংযত-আচরণ, বিনম্র-মনোবৃত্তি, সুনির্দিষ্ট-লক্ষ্যাভিসার, গভীর পাঠানুরাগ তোমাদের দান করুক মহত্ত্বের চারিত্রিক সম্পদ। পরম করুণাময় আল্লাহর নিকট এ প্রার্থনা করি। আমীন।



তারিখ ঃ   --- জানুয়ারী ------                                                                                         তোমাদের গুণমুগ্ধ
                                                                                                                        ------------ কলেজের অনুজ শিক্ষার্থীবৃন্দ


 -----------------------------------------------------------------------------------------------------------------



এই আর্টিকেলটি যদি আপনাদের সামন্য উপকারে আসে তাহলে মন্তব্যের মাধ্যমে অবশ্যই আমাদের জানাবেন।

1 টি মন্তব্য:

পৃষ্ঠাসমূহ